আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফুটবল মাঠে ইতিহাস গড়ার মুহূর্তেও চোখে ছিল অশ্রু। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরা হয়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক Vozinha। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের দিনে পাশে ছিলেন না তাঁর মা। কারণ, প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সময়মতো ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচে স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় কেপ ভার্দে। ম্যাচজুড়ে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেন ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি দলের জন্য এনে দেন ঐতিহাসিক এক পয়েন্ট এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ভোজিনহা জানান, এই মুহূর্তটি তিনি সারা জীবন ধরে কল্পনা করেছেন। কিন্তু তাঁর সুখের দিনে সবচেয়ে কাছের মানুষদের কয়েকজন উপস্থিত থাকতে পারেননি। বিশেষ করে তাঁর মা, যিনি ভিসা-সংক্রান্ত খরচ বহন করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি।
ভোজিনহা বলেন, “আমার মা এখানে থাকতে পারেননি। ভিসার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন ছিল, তা সময়মতো জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। আমি চাইতাম তিনি এই মুহূর্তটি দেখুন।” একই সঙ্গে তিনি তাঁর প্রয়াত দাদা-দাদির কথাও স্মরণ করেন, যাঁরা শৈশবে তাঁকে লালন-পালন করেছিলেন।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক নিশ্চয়তা ও ভিসা-সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করে। সেই প্রক্রিয়ার খরচ ও জটিলতার কারণে ভোজিনহার মায়ের যাত্রা সম্ভব হয়নি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত এই আক্ষেপের মধ্যেও দেশের জন্য গর্ব অনুভব করছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটি। আর সেই সাফল্যের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠেছেন ভোজিনহা।
✍️ মন্তব্য লিখুন