প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৫ পিএম
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। এ খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানিতে চাপ ধরে রাখতে এই অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজারে দামের চিত্র
সর্বশেষ লেনদেন অনুযায়ী—
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent crude) তেলের দাম টানা কয়েকদিন ধরে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের বেশি অবস্থানে রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেই বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা বর্তমানে তেলের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে।
কেন বাড়ছে দাম
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট Strait of Hormuz দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। এই পথটি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে—
সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে
পরিবহন ঝুঁকি বেড়ে যায়
বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়
এই তিনটি কারণ মিলেই তেলের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তবে কূটনৈতিক সমাধান বা সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সামগ্রিক প্রভাব
তেলের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর ক্ষেত্রে—
জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি
পরিবহন খরচ বাড়া
মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি
সব মিলিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করছে এবং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে অনুভূত হতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন