নিজস্ব প্রতিবেদন | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে টানা কয়েক দিন ধরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে।
বাজারে সর্বশেষ পরিস্থিতি
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক Brent Crude Oil জুন ডেলিভারির দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮.৬৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।
এর আগে এই সূচক প্রায় ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টানা সপ্তম দিনের মতো ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের West Texas Intermediate (WTI) জুন ডেলিভারির দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের সেশনেও এটি ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
রাজনৈতিক প্রভাব
White House জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় প্রকাশ্যে দরকষাকষির কোনো আগ্রহ নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
একজন সহকারী প্রেস সেক্রেটারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়া।
বাজার বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের এই টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলে তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। ফলে আগামী দিনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করে, কারণ এই অঞ্চল বিশ্ব তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সার্বিক পরিস্থিতি
বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে জ্বালানি দামের ওঠানামা শুধু বাজার নয়, পরিবহন, উৎপাদন ও সাধারণ ভোক্তা পর্যায়েও চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন