নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও সময়সূচি নির্ধারণে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি—বিশেষ করে সেশনজট—কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা বোর্ড এবং দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যৌথভাবে বৈঠকে বসে ভর্তি প্রক্রিয়ার কাঠামো, সম্ভাব্য সময়সূচি এবং একক ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনার পরিকল্পনা
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের আগেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এইচএসসি পরীক্ষাও কয়েক মাস এগিয়ে আনা হবে।
বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা এপ্রিল-মে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত হলেও নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী:
এসএসসি: ডিসেম্বর–জানুয়ারি
এইচএসসি: ফেব্রুয়ারি/মার্চ–এপ্রিল
ফল প্রকাশ: জুনের মধ্যে
এভাবে সময়সূচি বাস্তবায়ন হলে জুলাই থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
ভর্তি পরীক্ষা ৩–৪ মাস এগিয়ে আসার সম্ভাবনা
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। তবে নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে ভর্তি প্রক্রিয়া অন্তত তিন থেকে চার মাস এগিয়ে আসবে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে এবং ভর্তি যুদ্ধ শুরু হবে আগের তুলনায় অনেক আগেই।
একক ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাবনা
ভর্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণে ‘একক ভর্তি পরীক্ষা’ চালুর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে ইউজিসি জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন এবং পৃথক ভর্তি পদ্ধতির কারণে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সেশনজট কমাতে সরকারের উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে সেশনজটের অভিশাপ দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর। পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমিয়ে এনে দ্রুত শিক্ষাবর্ষ শুরু করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে একটি শিক্ষাবর্ষ শেষ হতে দেরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দীর্ঘ সেশনজট তৈরি হয়, যা শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে প্রবেশ বিলম্বিত করে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এ সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
যদিও ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনো সংশ্লিষ্ট চার দপ্তরের যৌথ বৈঠকের অপেক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে একক ভর্তি পরীক্ষা চালু হবে কিনা, এবং নতুন সময়সূচি কবে থেকে কার্যকর হবে—এসব বিষয়েই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সঠিক সমন্বয় ও প্রস্তুতি জরুরি। অন্যথায় হঠাৎ সময়সূচি পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন