০৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩০ PM
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) সনদ জাল করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষকের এমপিও বাতিল, উত্তোলিত সরকারি অর্থ ফেরত এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক সুমন চন্দ্র সরকার নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার মোহনগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়-এ ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি নিজেকে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে দাবি করলেও যাচাই-বাছাইয়ে তার সনদটি জাল ও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক ফিরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংস্থাটির শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান অনুবিভাগের সদস্য (যুগ্মসচিব) সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে কর্মরত ১৪ জন নিবন্ধনপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সনদ যাচাই করা হয়। এর মধ্যে সুমন চন্দ্র সরকারের নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র (রোল নং 30422902, রেজি. নং 1000077325, ৭ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১১) জাল হিসেবে শনাক্ত হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর (N56796910) অনুযায়ী তার এমপিও সুবিধা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি ভুয়া সনদের মাধ্যমে চাকরি গ্রহণ করে এ পর্যন্ত উত্তোলিত সরকারি অর্থ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং দুর্নীতির দায়ে মামলা দায়েরের উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাল সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও হতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে—এমন বার্তাই এ নির্দেশনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন