প্রকাশিত: ১২:৩০, ৩ মার্চ ২০২৬
কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা মানেই জাতীয় অর্থনীতির ভিত মজবুত করা।
সোমবার রাজধানীর Hotel InterContinental Dhaka–এ প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাঠ ও খামারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে কৃষকের বাস্তব সমস্যাগুলো তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি স্মরণ করেন ড. আখতার হামিদ খান–কে, যিনি বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড)–এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিভিন্ন দেশে আধুনিক কৃষিপদ্ধতির চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কৃষির আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
কৃষি কার্ড ও তথ্যভাণ্ডার
মন্ত্রী জানান, খুব শিগগিরই কৃষি কার্ড চালু করা হবে। বর্তমানে দেশে কৃষকদের একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডারের অভাব রয়েছে। কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সহজ হবে এবং ভর্তুকি ও সহায়তা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণ ঘাস উৎপাদন হলেও পশুখাদ্যের দাম বেশি কেন—তা খতিয়ে দেখা হবে। মাঠপর্যায় থেকে সমস্যাগুলো শনাক্ত করে বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণের মাধ্যমে খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষিঋণ মওকুফ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে টেকসই করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক চাপ কমাবে এবং উৎপাদনে নতুন গতি আনবে।
তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষি কার্ড বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এটি চালু হলে কৃষকদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি ও সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে।
প্রাণিসম্পদ খাতে অগ্রগতি
কর্মশালায় জানানো হয়, প্রাণিসম্পদ সেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারা দেশে ৪৭৫টি মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (এমভিসি) কেনা হয়েছে। এসব ক্লিনিক উপজেলা পর্যায়ে প্রাণী-চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে, ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিরা দ্রুত চিকিৎসা ও পরামর্শ পাচ্ছেন।
লাইভস্টক ফার্মার্স ফিল্ড স্কুল (এলএফএফএস), প্রশিক্ষণ, টিকাদান, রোগ নজরদারি ও কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। খামারিদের প্রোফাইলিং, ব্যাংক হিসাব খোলা ও সমবায় সঞ্চয়ের মাধ্যমে তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১৩৫টি ওয়েট মার্কেট নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩টি জেলা শহরে আধুনিক মানের কসাইখানা নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ধারাবাহিক সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন