
প্রাণ কুমার রায়, প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, রাত
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা লিখিত নয়, সম্পূর্ণ এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী) পদ্ধতিতেই অনুষ্ঠিত হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন এনটিআরসিএ-এর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।
সোমবার (২ মার্চ) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে চেয়ারম্যান জানান, প্রকাশিত সার্কুলারেই পরীক্ষার ধরন উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে লিখিত পরীক্ষার কোনো কথা বলা হয়নি। “২০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতেই ১৯তম নিবন্ধনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে প্রার্থীদের বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই,” বলেন তিনি।
এর আগে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ ও পেজে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, “সার্কুলারের বাইরে কোনো তথ্য বিশ্বাস না করাই ভালো।”
ই-রেজিস্ট্রেশন শেষ, শুরু হবে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়। এখন পরবর্তী ধাপে শূন্য পদের তথ্য (ই-রিকুইজিশন) সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করবে কর্তৃপক্ষ।
নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি—এই তিন বিভাগের জন্য ২০০ নম্বরের অভিন্ন পরীক্ষার কাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে স্কুল-কলেজ ও কারিগরি বিভাগের জন্য ১০০ নম্বর সাবজেক্টিভ ও ১০০ নম্বর জেনারেল এবং মাদ্রাসা বিভাগের জন্য ১৪০ নম্বর সাবজেক্টিভ ও ৬০ নম্বর জেনারেল করার একটি প্রস্তাব ছিল।
তবে এ ধরনের বিভাজন বৈষম্য তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে তিন বিভাগের জন্য একই ধরনের পরীক্ষার প্যাটার্ন রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
প্রথমবার যুক্ত হতে পারে ভাইভা নম্বর
এনটিআরসিএ সূত্রে আরও জানা গেছে, পূর্ববর্তী নিবন্ধন পরীক্ষাগুলোতে ভাইভার নম্বর যুক্ত না থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো মৌখিক পরীক্ষার নম্বর যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
এছাড়া নতুন বিধিমালার খসড়া অনুযায়ী, ১৯তম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বয়স গণনার সময়সীমাও পরিবর্তন হতে পারে। সম্ভাব্য নিয়ম অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই প্রার্থীদের বয়স গণনা করা হবে—যা পূর্ববর্তী পদ্ধতি থেকে ভিন্ন।
শিক্ষাবিদদের মতে, অভিন্ন নম্বর কাঠামো ও স্বচ্ছ পরীক্ষাপদ্ধতি নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্য কমবে এবং মেধাভিত্তিক বাছাই আরও শক্তিশালী হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন