নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৩ PM
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহারের অভিযোগে তার এমপিও (মাসিক বেতন-ভাতা) বন্ধসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম মোছা. নারজুস আরা বেগম। তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সেরুডাঙ্গা দারুল উলুম দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এনটিআরসিএর নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, নারজুস আরা বেগম তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি সংস্থার ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মহামান্য আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশনার পর সংস্থার কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং সংরক্ষিত নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, তিনি ২০০৮ সালের ৪র্থ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও অকৃতকার্য হন।
পর্যালোচনায় আরও জানা যায়, তার দাখিলকৃত শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্রটি যাচাই প্রক্রিয়ায় জাল ও ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে ওই সনদের ভিত্তিতে তার শিক্ষকতা এবং সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয়টি অবৈধ বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, এনটিআরসিএর নথিপত্র ও শুনানিতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তিনি জাল সনদ ব্যবহার করে মাদ্রাসায় অবৈধভাবে কর্মরত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতাদি গ্রহণ করে আসছিলেন। এ অবস্থায় তার এমপিও সুবিধা অবিলম্বে বন্ধসহ বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাল সনদ সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচাই-বাছাই জোরদার করতে এনটিআরসিএ সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রয়োজনে অনুরূপ অভিযোগের ক্ষেত্রেও নথি যাচাই ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
✍️ মন্তব্য লিখুন