সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
নিজ নির্বাচনী এলাকা ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনিয়মমুক্ত রাখতে সরাসরি হটলাইন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। গত বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ফেনী-৩ এলাকাকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং যে কোনো ধরনের অনিয়ম থেকে মুক্ত রাখতে তিনি বদ্ধপরিকর। একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্ভয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেন।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি একটি নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বর প্রকাশ করেন, যেখানে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ জানানোর জন্য ০১৭৩০০০৪৮৪৪ নম্বরে যোগাযোগ অথবা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছোট-বড় বিভিন্ন অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ নিয়মিত চাঁদার চাপের অভিযোগ করে আসছিলেন। হটলাইন চালুর ঘোষণাকে তারা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
সোনাগাজীর এক ব্যবসায়ী বলেন, অভিযোগ দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে মানুষ সাহস পাবে এবং অনিয়ম কমবে। তবে শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর পদক্ষেপই মূল বিষয়—এমন মতও রয়েছে অনেকের। স্থানীয়দের মতে, দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এ উদ্যোগ বাস্তব ফল দেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আবদুল আউয়াল মিন্টুর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি ফেনী জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময় মন্ত্রীশূন্য থাকা এ জেলায় তাঁর মন্ত্রিত্ব উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে পারে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এদিকে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো, অভিযোগ যাচাই এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে হটলাইন কার্যক্রম কার্যকর হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত এ উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন হয় এবং সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারে কি না।
✍️ মন্তব্য লিখুন