নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ব্যাহত জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরোল এ কথা বলেছেন।
আইইএর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দেশভেদে ভিন্ন সময় লাগতে পারে। কোনো কোনো দেশের উৎপাদন দ্রুত স্বাভাবিক হলেও কিছু দেশে পুনরুদ্ধারে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের বড় ধরনের মজুতসংকট নেই। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ২১ এপ্রিল জানান, দেশে জ্বালানি সরবরাহে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, আতঙ্ক থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা বা ‘প্যানিক বায়িং’ বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। তিনি জানান, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুত ছিল এবং জ্বালানি আমদানিও অব্যাহত ছিল।
এর আগে ৭ এপ্রিল জাহেদ উর রহমান জানিয়েছিলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তখন তিনি বলেন, সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হলে অফিস, মার্কেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি, পরিবহন ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপের বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করবে।
তবে বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট দুই বছরে স্বাভাবিক হবে—এমন কোনো বক্তব্য জাহেদ উর রহমানের নামে নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। তাই এ ধরনের দাবি প্রচারের ক্ষেত্রে আইইএর বৈশ্বিক পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি—দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি।
✍️ মন্তব্য লিখুন