বরিশাল প্রতিনিধি | ৮ মার্চ ২০২৬
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর অপারেশন থিয়েটারে এক শিশুকে মারধরের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মচারী ওটি সহায়ক শাহীন ওরফে নাজমুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অর্থোপেডিক্স বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে কর্মরত অফিস সহায়ক জিএম নাজমুল হাসান শিশুটিকে চড়-থাপ্পড় মারছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, শিশু নির্যাতন প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মো. মাজহারুল রেজওয়ান-কে। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ডেন্টাল অনুষদের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. হাসান মেহমুদ। অপর সদস্য হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশু রিমন পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় তার হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সকালে তাকে বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে আনা হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় ৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, বিচ্ছিন্ন আঙুলটি আর জোড়া লাগানো সম্ভব নয়।
এরপর চিকিৎসার অংশ হিসেবে ইনজেকশন দেওয়ার সময় শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওটি সহায়ক শাহীন (নাজমুল)। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিশুটির গালে সজোরে চড় মারেন। এতে শিশুটির গালে আঙুলের দাগ পড়ে এবং চোখের ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে যায় বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অপারেশন থিয়েটারের ভেতর থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তারা ছুটে গেলে এ ঘটনা দেখতে পান। প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
✍️ মন্তব্য লিখুন