ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সংলাপে বৈষম্য বিলোপে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইন দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন আইনজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের নেতারা। বক্তারা বলেন, সংবিধানে সমতা ও বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা থাকলেও বাস্তবে নানা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত আইন জরুরি।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সংলাপে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বৈষম্য প্রতিরোধে শক্তিশালী আইন প্রণয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন। তাঁর মতে, দুর্বল বা অস্পষ্ট আইন নাগরিকদের কার্যকর প্রতিকার দিতে পারে না। তাই আইন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে বৈষম্যবিরোধী আইন অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি তোলেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, দলিত জনগোষ্ঠী, হিজড়া সম্প্রদায়, চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের মুখোমুখি। তাদের জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি সুরক্ষা অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বৈষম্যবিরোধী আইনের ধারণা নতুন নয়। ২০২২ সালে এ-সংক্রান্ত একটি বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছিল, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধকতা, জন্মস্থান ও পেশার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ছিল। তবে আইনের কার্যকারিতা, শাস্তির বিধান এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আরও পরিমার্জনের দাবি উঠে।
সংলাপের বক্তারা বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য বৈষম্য বিলোপ আইন শুধু একটি আইনি উদ্যোগ নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই বিলম্ব না করে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইনটি দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন