লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম (৪৮) এবং একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সাজিদুল ইসলাম মজুমদার (১৯)। শরীফুল ইসলাম ছাত্রাবাসের হল সুপারের দায়িত্বেও ছিলেন। ঘটনার পর অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানকে অপসারণ করে তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বাবা জিয়া উদ্দিনের দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গত ১৬ জুন বিকেলে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে, বিশেষ করে পিঠ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক ও কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়।
পরিবারের অভিযোগ, একটি আইফোন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মেহেদীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। সেই নির্যাতনের ফলেই তার মৃত্যু ঘটে এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ জুন রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং মামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন