ডেস্ক নিউজ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতা–কর্মীদের প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার মতো নৈতিক সাহস নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্রিফিংয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতের কর্মকাণ্ড ও অভিযোগের কারণে দলটির পক্ষে জনসমর্থনের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা কঠিন। তাঁর ভাষায়, “লুটপাটকারী, মাফিয়া ও আইনভঙ্গকারীদের খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।” তিনি আরও দাবি করেন, দেশের মানুষের স্মৃতি থেকে অতীতের ঘটনাগুলো মুছে না গেলে আওয়ামী লীগ সহজে জনপরিসরে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পাবে না।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে আইনগতভাবে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং দলটি যদি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে, তাহলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দলটির সাংগঠনিক ও আর্থিক সক্ষমতা এখনও পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়নি। ফলে অর্থের বিনিময়ে বিচ্ছিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, দলটি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন সরকারের একজন শীর্ষ উপদেষ্টার এ ধরনের মন্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। তবে দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
✍️ মন্তব্য লিখুন