রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে পৃথক বাস সার্ভিস চালুর জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকে দেশের সড়ক পরিবহনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এবং জনভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে কর্মজীবী নারী ও ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ বিবেচনায় রাজধানীতে দ্রুততম সময়ে ‘লেডিস বাস’ সার্ভিস চালুর জন্য একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে বিশেষ উদ্যোগ
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, রাজধানীতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, হয়রানি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। এই প্রেক্ষাপটে পৃথক বাস সার্ভিস চালু হলে নারীরা তুলনামূলক নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নিয়মিত পরিবহন সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুত রুট, বাসসংখ্যা, পরিচালনা কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার খসড়া প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সড়ক খাতে সংস্কারেও জোর
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনবান্ধব করতে সমন্বিত সংস্কার অপরিহার্য।
জিয়াউর রহমানের মাজার সংস্কার দ্রুত শেষের নির্দেশ
একই দিনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর সমাধিস্থলের চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাজার কমপ্লেক্সের পবিত্রতা বজায় রেখে আধুনিকায়ন কাজ দ্রুত শেষ করে তা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার তাগিদ দেন।
নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে প্রশাসনিক তৎপরতা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উভয় প্রকল্পের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করায় প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়বে এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ দ্রুত দৃশ্যমান হবে। বিশেষ করে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু হলে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নারী যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন