নিজস্ব প্রতিবেদক
জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান। সেই ভ্যান চালিয়েই চলত সংসার, মিটত দৈনন্দিন খরচ। কিন্তু নামাজ আদায় করতে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে গেছে সেই সম্বল। ভ্যান চুরির ঘটনায় এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে এক প্রতিবন্ধী চালকের।
জানা গেছে, প্রতিবন্ধী ওই চালক দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। নামাজের সময় ভ্যানটি মসজিদের বাইরে রেখে তিনি জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে বের হয়ে দেখেন, যেখানে ভ্যানটি রেখে গিয়েছিলেন সেখানে আর সেটি নেই। পরে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ভ্যানটিই ছিল তাদের আয়ের একমাত্র উৎস। ভ্যান হারিয়ে যাওয়ার পর সংসারে নেমে এসেছে চরম সংকট। নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণ, ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
প্রতিবন্ধী চালক বলেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কখনো কারও কাছে হাত পাততে হয়নি। নিজের শ্রমে উপার্জন করে পরিবার চালিয়েছেন। কিন্তু ভ্যান চুরির পর তিনি কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। নতুন ভ্যান কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্যও তাঁর নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, একজন প্রতিবন্ধী মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন চুরি হয়ে যাওয়া শুধু একটি সম্পদ হারানোর ঘটনা নয়, বরং একটি পরিবারের জীবিকা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার শামিল।
এদিকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ভ্যানটি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতারও আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। অতীতে অনুরূপ ঘটনায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ভ্যানচালকদের নতুন ভ্যান প্রদান করার নজিরও রয়েছে।
মানবিক এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি ছোট সম্পদ অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে কেবল বাহন নয়, বরং বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। সেই ভরসা হারিয়ে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে প্রতিবন্ধী ভ্যানচালকের।
✍️ মন্তব্য লিখুন