আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন-ইরান সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এর অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে খাদ্যবাজার ও মানবিক সহায়তা ব্যবস্থায়। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।
WFP-এর হিসাব অনুযায়ী, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, শ্রীলঙ্কাসহ আমদানি-নির্ভর ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আফগানিস্তানে ১ কোটি ৭৪ লাখের বেশি এবং সোমালিয়ায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ চলতি বছরে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধের কারণে খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী পরিবহনে বড় ধরনের বিলম্ব দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হাজার হাজার টন খাদ্যসামগ্রী বন্দরে আটকে আছে বা বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। এর ফলে সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে বৈশ্বিক ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের রেকর্ড পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। একই সঙ্গে অর্থায়নের ঘাটতির কারণে অনেক দেশে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সংকুচিত করার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ও সারের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে এর প্রভাব শুধু বর্তমান খাদ্যমূল্যেই নয়, আগামী মৌসুমের কৃষি উৎপাদনেও পড়বে। ফলে যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবের বাইরে গিয়ে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন