চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের তৈরি টিকটক ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান শেষে ধারণ করা এসব ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণের নেতারা। এ সময় প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির কয়েকজন শিক্ষক প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে শিক্ষার্থীদের ‘অবাধ মেলামেশা’, ‘অশালীন উপস্থাপনা’ এবং ‘অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ’ দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, এসব আচরণ একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ ও পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করা, ভবিষ্যতে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন, ছেলে-মেয়েদের মেলামেশায় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ জোরদার, শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আচরণবিধি প্রণয়ন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই গভর্নিং বডির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মতভেদও দেখা গেছে। কেউ কেউ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও, অন্য একটি অংশ শিক্ষার্থীদের বয়স ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সংবেদনশীলভাবে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের অনলাইন আচরণ, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ—এই তিনটি বিষয়ের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন