ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও আড়াই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও যোগদান করতে না পারায় গভীর অনিশ্চয়তা ও হতাশায় ভুগছেন ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থী। দ্রুত যোগদানের দাবিতে এবার তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ছাড়া দেশের বাকি ৬১ জেলার প্রার্থীরা নিজ নিজ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একযোগে এই স্মারকলিপি জমা দেন। এতে তারা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
দীর্ঘ অপেক্ষা, বাড়ছে সংকট
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রার্থীরা মেডিকেল পরীক্ষা, ডোপ টেস্টসহ সব আনুষ্ঠানিকতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করেছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসনদ জমা দেওয়া এবং মার্চের শুরুতে মূল সনদ যাচাই কার্যক্রমও শেষ হয়েছে।
তবে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত নিয়োগপত্র বা যোগদানের কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
আর্থিক ও সামাজিক চাপ
দীর্ঘ বিলম্বের কারণে অনেক প্রার্থী আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। কেউ কেউ আগের চাকরি ছেড়ে এখন বেকার অবস্থায় রয়েছেন। আবার অনেকের বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্য কোনো সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগও নেই।
ফলে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন প্রার্থীরা।
আগেও জানানো হয়েছিল দাবি
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল একই দাবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। কিন্তু তাতেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা এবার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার পটভূমি
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরও নিয়োগ কার্যক্রম থমকে থাকায় দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন