ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০২৬:
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর এক পরিচালকের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই পোস্ট দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা ওই আদেশে উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষর করেন।
কী ঘটেছিল
মাউশির পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন) প্রফেসর কাজী মো. আবু কাইয়ুম সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান নিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।
তার পোস্টে দাবি করা হয়, ১৪ ব্যাচের কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করে ১৬ ব্যাচের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক নিয়ম ও প্রচলিত প্রথার পরিপন্থী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
তবে পোস্টটি কিছু সময় পর তিনি নিজেই মুছে ফেলেন।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ফেসবুক পোস্টের পরদিনই তাকে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জনপ্রশাসনে ওএসডি করা সাধারণত এমন একটি পদক্ষেপ, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কার্যত দায়িত্বহীন অবস্থায় রাখা হয়, যদিও তিনি চাকরিতে বহাল থাকেন।
প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
ঘটনাটি প্রকাশের পর শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।
প্রেক্ষাপট
সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে সরকার বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে পারেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন