প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৬ PM
সরকারি চাকরিতে সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ আর ফিরবে না বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি বলেছেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতেই সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও–এ বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) সংস্কার প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানবসম্পদ। এই সম্পদের উন্নয়ন করতে না পারলে কোনো খাতেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় ও স্বচ্ছভাবে কাজ করতে হবে।
মেধাভিত্তিক নিয়োগে গুরুত্ব
আব্দুল বারী বলেন, সরকারি চাকরিতে মেধা, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই নিয়োগ ও মূল্যায়ন হওয়া উচিত। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দক্ষতার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে এই সংকট আরও বাড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এখন আর নেই। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে মানুষের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার জরুরি।
মৌখিক পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
মৌখিক পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে যে প্রশ্ন রয়েছে, সেটিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো ফল করেও মৌখিক পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে—যা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
মৌখিক পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন–এর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আস্থা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে, যা পুনর্গঠন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে।
পিএসসির স্বাধীনতা জোরদার করার আহ্বান
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থাটিকে স্বাধীনভাবে ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি যদি নিজে স্বাধীনভাবে কাজ না করি, তাহলে অন্য কেউ আমাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে পারবে না।”
✍️ মন্তব্য লিখুন