ঢাকা, ২১ মার্চ ২০২৬: ঈদুল ফিতরের পরের দুই দিন রোজা রাখা যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রতি বছরই প্রশ্ন দেখা যায়। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন, অর্থাৎ শাওয়াল মাসের ১ তারিখে রোজা রাখা হারাম। তবে এর পরের দিনগুলোতে, অর্থাৎ শাওয়ালের ২ ও ৩ তারিখে, নফল রোজা বা শাওয়ালের রোজা রাখায় কোনো বাধা নেই।
হাদিসে স্পষ্টভাবে দুই ঈদের দিন রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন ও ঈদুল আজহার দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। এ বর্ণনা সহিহ বুখারিতে এসেছে। একইভাবে আরেক বর্ণনায় ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, নবী (সা.) দুই দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন—একটি সেই দিন, যেদিন মানুষ রমজানের রোজা শেষ করে; অন্যটি কোরবানির গোশত খাওয়ার দিন।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নিষিদ্ধ রোজার দিনের সংখ্যা মোট পাঁচটি। এর মধ্যে আছে ঈদুল ফিতরের ১ দিন, ঈদুল আজহার ১ দিন, এবং জিলহজের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ, যেগুলো আইয়ামে তাশরিক নামে পরিচিত। হাদিসে এসব দিনকে পানাহার, আনন্দ ও আল্লাহর জিকিরের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এ দিনগুলোতে রোজা রাখা বৈধ নয়।
সে হিসাবে ঈদুল ফিতরের পরের দুই দিন রোজা রাখা শরিয়তসম্মত। অনেকেই এ সময় শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা শুরু করেন। কারণ, ঈদের দিনটি বাদ দিয়ে শাওয়ালের বাকি দিনগুলোতে এই নফল রোজা রাখার সুযোগ রয়েছে। ইসলামি গবেষকদের ভাষ্যও একই—ঈদের পরদিন থেকেই নফল রোজা রাখা যায়, এতে কোনো সমস্যা নেই।
এ বিষয়ে আলেমরা আরও বলেন, সমাজে প্রচলিত “ঈদ তিন দিন” ধারণাটি মূলত সামাজিক রীতি; শরিয়তের দৃষ্টিতে ঈদুল ফিতর একদিনই। তাই ঈদের আনন্দ-অনুষ্ঠান কয়েক দিন চলতে পারে, কিন্তু রোজা নিষিদ্ধ থাকার বিধান কেবল শাওয়ালের ১ তারিখের জন্যই প্রযোজ্য।
ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে বলা যায়, ঈদুল ফিতরের পরের দুদিন রোজা রাখা যাবে। কেউ শাওয়ালের নফল রোজা রাখতে চাইলে তিনি ঈদের পরদিন থেকেই তা শুরু করতে পারেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন