অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতার বিপরীতে দিনাজপুরের হিলি বাজারে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বেশি ফলন ও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এ দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে স্বস্তি ফিরেছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হিলির সবজি বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রবি মৌসুমের ভালো উৎপাদনের কারণে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মোকাম থেকে নিয়মিত আমদানি বাড়ায় পাইকারি দাম কমে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
অর্ধেকে নেমেছে একাধিক সবজির দাম
ব্যবসায়ীরা জানান, দুই দিন আগেও যে শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে বেগুনের দাম ৬০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা কেজিতে নেমেছে। গাজর ৪০ টাকা থেকে কমে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
টমেটোর দামও কমেছে; কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমে এখন ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মটরশুঁটি ৪০ টাকা থেকে কমে ২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ২৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা পিস এবং বাঁধাকপি ১৫ টাকা থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে মৌসুমের নতুন সবজি করলার দাম তুলনামূলক বেশি, প্রতি কেজি ২০০ টাকা। একই দামে ভারত থেকে আমদানি করা শজনে ডাঁটাও বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও আলুতেও দাম কমার প্রভাব
শুধু সবজি নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দামেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ১২০ টাকা থেকে কমে ৯০ টাকা কেজি এবং আলু ১৪ টাকা থেকে কমে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেবুর দাম হালি প্রতি ২০ টাকা কমে ৩০ টাকায় নেমেছে।
সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি
হিলি বাজারের সবজি ব্যবসায়ী বিপ্লব শেখ জানান, বিরামপুর, পাঁচবিবি ও আক্কেলপুরসহ আশপাশের মোকাম থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি আসছে। এ বছর এই অঞ্চলে সবজির ফলন ভালো হওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম কমেছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই দিন ধরে স্থানীয় বাজারে আমদানি বাড়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
ক্রেতাদের সন্তুষ্টি
বাজারে সবজি কিনতে আসা ভ্যানচালক আজগর আলী বলেন, রমজানের শুরুতে সবজির দাম অনেক বেশি ছিল, কিন্তু এখন কমে যাওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন।
অপর ক্রেতা রিয়াদ বলেন, সাধারণত রমজান এলেই প্রয়োজনীয় সবজির দাম বেড়ে যায়। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, কম দামে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি করে কেনাকাটা করা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বাড়া, পরিবহন স্বাভাবিক থাকা এবং পাইকারি সরবরাহ জোরদার থাকলে রমজানজুড়েই সবজির দাম স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভোক্তা পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন