আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ধীরে ধীরে কমে আসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের মধ্যেই। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনা কিছুটা অগ্রগতি দেখালেও এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা এগোলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনই হচ্ছে না। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো দূরত্ব রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, আলোচনা সফল হলে তা হবে “অর্থবহ ও শক্তিশালী” চুক্তি, নতুবা কোনো চুক্তিই হবে না। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, চুক্তি এখনো ভেঙে যেতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনায় মূলত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক করা, সামরিক উত্তেজনা কমানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ইরান এখনো তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
এদিকে সম্ভাব্য সমঝোতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তেলের দামও সাময়িকভাবে কমে আসে। কিন্তু আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়ায় বাজারে আবারও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, চুক্তি ভেস্তে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে পারস্পরিক অবিশ্বাসই এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত কোনো সমাধান আসবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে সংশয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন