অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, অতীত ও বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
কী বলেছেন জামায়াত আমির
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির দাবি করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪–সংক্রান্ত ঘটনাবলির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক তথ্য গোপন করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি তখন উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যা বলেছিলেন এবং পরে জাতির উদ্দেশে যা জানিয়েছিলেন, বর্তমান বক্তব্যে তার প্রতিফলন নেই।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “সেদিন কোটি কোটি মানুষ যা শুনেছে এবং রাষ্ট্রপতি যা বলেছিলেন, আর এখন যা বলা হচ্ছে—তার হিসাব রাষ্ট্রপতি মিলিয়ে দেবেন কি?”
জামায়াত আমিরের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ থেকে এ ধরনের ভিন্নমুখী বক্তব্য জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং জনগণ ‘অবুঝ নয়’।
সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত
সম্প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী সরকারকালীন বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি জানান, তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্যমতে, ওই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সামরিক বাহিনীর সমর্থন না থাকায় তাকে অপসারণের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ও জামায়াত আমিরের প্রতিক্রিয়া—দুই মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সিদ্ধান্ত, ক্ষমতার ভারসাম্য ও সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে আনছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জামায়াত আমিরের মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন