অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পে-স্কেলের সুপারিশ, মোট ব্যয় এবং দেশের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা না করে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।
বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
আগে সুপারিশ, তারপর বাস্তবায়নের রোডম্যাপ
অর্থমন্ত্রী বলেন, “পে-স্কেলের সুপারিশ আমাদের দেখতে হবে। না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।” তিনি জানান, প্রস্তাবিত পে-স্কেলের মোট আর্থিক প্রভাব, কতটুকু বাস্তবায়নযোগ্য এবং কোন সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
তার ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রাজস্ব আদায় ও ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত দুর্বল অবস্থায় থাকায় বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়েই পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “বর্তমান আর্থিক অবস্থায় কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে।”
অর্থাৎ, তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের বদলে ধাপে ধাপে বা আংশিক বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও পর্যালোচনায় থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির ওপর জোর
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সকল মানুষের জন্য হতে হবে এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করা গেলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
একই সঙ্গে তিনি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, অর্থনীতির সুফল যেন দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার
তিনি জানান, সাম্প্রতিক পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে দুর্বল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তার মতে, শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব।
বহুমুখী অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা
পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনীতি থেকে গণতান্ত্রিক ও উন্মুক্ত অর্থনীতিতে রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিরেগুলেশন ও লিবারালাইজেশনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বরিশালের শীতলপাটির মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের কারিগরদের প্রশিক্ষণ, ঋণ ও অনলাইন বিপণনের সুযোগ দেওয়া গেলে নতুন বাজার তৈরি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
সারকথা
সরকার এখনো নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেনি। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সুপারিশ পর্যালোচনা, ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ এবং দেশের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পরই বাস্তবায়নের সময় ও পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন