অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:২৮, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত পে-স্কেলের সুপারিশগুলো আগে সার্বিকভাবে পর্যালোচনা করে ব্যয়, সামর্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে, এরপরই বাস্তবায়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নবম পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গ নাকি আংশিকভাবে কার্যকর করা হবে—এ বিষয়ে তাড়াহুড়া করে কিছু বলা সম্ভব নয়। প্রথমে দেখতে হবে মোট আর্থিক ব্যয় কত দাঁড়ায় এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে তা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের কর রাজস্ব এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় এখনো নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বড় ধরনের ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজস্ব সক্ষমতা, বাজেট চাপ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, একটি টেকসই পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে মূল্যায়ন জরুরি। কখন, কতটুকু এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
এ সময় তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো এমন হতে হবে যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং সমান সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারি ব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকার যদি ধাপে ধাপে বা আংশিক বাস্তবায়নের পথে এগোয়, তবে তা বাজেট ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হতে পারে।
এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা রয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয়েছে, আর্থিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন