নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা ছুটি ঘোষণার ফলে সৃষ্ট পাঠদানের ঘাটতি পূরণে বিকল্প পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজানসহ বিভিন্ন ছুটি মিলিয়ে মোট ৩৬ দিনের জন্য স্কুলগুলো বন্ধ থাকবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ছুটির মধ্যে রয়েছে রমজান মাস, শবে কদর, ঈদুল ফিতর, স্বাধীনতা দিবস এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসবের ছুটি। ফলে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ছুটি থাকলেও প্রকৃত কর্মদিবস হিসেবে ক্লাসরুম বন্ধ থাকবে তুলনামূলক কম সময়।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, মাদ্রাসা ও কলেজগুলো আগে থেকেই পুরো রমজান মাস ছুটি ঘোষণা করেছে। সব স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ছুটির সমতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, মোট ৩৬ দিনের ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটি বাদ দিলে কার্যত কর্মদিবস হিসেবে ছুটি দাঁড়ায় ২৬ দিন এবং বাস্তবে ক্লাস বন্ধ থাকবে প্রায় ১৮ দিন। এই সময়ের যে পাঠ্যসূচির ঘাটতি তৈরি হবে, তা পুষিয়ে নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ছুটির পর অতিরিক্ত ক্লাস, পাঠসূচি পুনর্বিন্যাস এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও আগাম একাডেমিক প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ দীর্ঘ ছুটির ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অনেকেই নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে পরীক্ষামুখী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সিলেবাস সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এর আগে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এক আইনজীবীর রিট আবেদনের পর হাইকোর্ট স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সরকার চেম্বার আদালতে গেলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়, ফলে রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার আইনগত বাধা থাকেনি। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত ছুটির সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন, পারিবারিক সময় এবং রমজান মাসে শারীরিক সুস্থতার বিষয় বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনায় এসেছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত ছুটি শেষে যথাসময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে এবং সেসময় একাডেমিক ক্ষতি পূরণে সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন