নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার অফিসে চিকিৎসকদের দুপুর ১২টায় উপস্থিত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাকে নিজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।
সময়ানুবর্তিতায় জোর
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “ডাক্তারদের সকাল ৯টার অফিসে ১২টায় গেলে চলবে না।”
তিনি জানান, এক মাসের মধ্যে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু সাতদিনের মধ্যে
স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র জানার জন্য দ্রুত মাঠপর্যায়ে নামার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করবেন এবং সেবার মান, জনবল ও ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে মূল্যায়ন করবেন।
দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অঙ্গীকার
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
তার ভাষায়,
> “এই মন্ত্রণালয়ে কোনো দুর্নীতি হতে পারবে না। কারও চাপে কোনো কাজ হবে না, মানুষের কল্যাণে কাজ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট রয়েছে কিনা তা যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আস্থা সংকট দূর করতে মানোন্নয়নে জোর
দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করা গেলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমবে।
নিজের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও দেশের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জটিল ও দেশে চিকিৎসা সম্ভব নয়—এমন পরিস্থিতি ছাড়া বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়গুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন