নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর মেয়াদ সাংবিধানিকভাবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। ফলে তিনি পদে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনগত সুযোগ নেই।
সংবিধান কী বলছে
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেবল তিনটি কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে—
পদত্যাগ
অভিশংসন
মৃত্যু বা গুরুতর শারীরিক/মানসিক অক্ষমতা
এই তিনটির কোনোটি না ঘটলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করা যায় না।
নির্বাচন কবে হতে পারে
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। সে হিসেবে বর্তমান মেয়াদ অনুযায়ী নিয়মিত নির্বাচন হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৮ সালের শুরুর দিকে (জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি সময়সীমার মধ্যে)।
আগে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কবে
বিশ্লেষকদের মতে, কেবল তখনই আগাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে পারে যদি—
রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন
সংসদে অভিশংসনের মাধ্যমে পদ শূন্য করা হয়
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তফসিল ঘোষণা করবে এবং সংসদ সদস্যদের ভোটেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেননি। ফলে সাংবিধানিকভাবে পদ শূন্য না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
সারসংক্ষেপে, পদত্যাগ বা অপসারণ না হলে নিয়মিত মেয়াদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্ধারিত সময় ২০২৮ সালের আগে নয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন