সিলেট: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলির নির্দেশ কে দিয়েছিলেন—এ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ না করায় সিলেটের জেলা প্রশাসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত। আদালত বলেছে, চাহিদা অনুযায়ী তথ্য না দেওয়ায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত হচ্ছে এবং বিচার প্রক্রিয়াও শুরু করা যাচ্ছে না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিলেট এর আমলি আদালত নম্বর-২–এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন। বিষয়টি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে আসে।
আন্দোলন চলাকালে নিহতের ঘটনায় মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জ উপজেলা-র ধারাবহর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তাজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।
পরে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)–কে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র শ্রীমঙ্গল সেক্টর সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালকের কাছে পৃথকভাবে তথ্য ও কাগজপত্র চেয়ে আবেদন পাঠান।
কোন ম্যাজিস্ট্রেট গুলির আদেশ দিয়েছিলেন—চাওয়া হয়েছিল সে তথ্য
জেলা প্রশাসনের কাছে বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়, ঘটনাদিনে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিজিবির কাছে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদস্যদের তালিকা চাওয়া হয়।
আদালত সূত্র বলছে, বিজিবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে এ বিষয়ে আর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আদালতের একাধিক আদেশেও তথ্য না পাওয়া
তদন্ত কর্মকর্তা তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি আদালতে জানালে গত বছরের ১৫ জুন আদালত জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেন। এরপরও জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য না আসায় আদালত আরও কয়েক দফা তথ্য চাইলেও তা পাওয়া যায়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলাটি দায়ের হলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি, যা বিচারকাজ শুরুর ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। আদালতের আদেশ দীর্ঘদিন অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং তা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
১৫ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ
শোকজ নোটিশে জেলা প্রশাসককে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে—কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহে বিলম্বের কারণে একটি সংবেদনশীল হত্যামামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ছে, যা বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথও জটিল করে তুলছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন