নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:৩২ PM
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করা হলে নির্বাচনী তফসিলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন শিশির মনির। তিনি বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ ও নির্বাচনী তফসিল পরস্পরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।
সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
‘অবিচ্ছেদ্য যমজ’ হিসেবে উল্লেখ
শিশির মনির বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৬ নম্বর ধারা এবং নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল—সবগুলোই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তার ভাষায়, “এগুলো একে অপরের ‘অবিচ্ছেদ্য যমজ’। একটি বাতিল হলে অন্যটি কার্যকর রাখা সম্ভব নয়।”
তার মতে, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হলে তা সরাসরি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আইনি অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।
সংস্কার প্রক্রিয়া ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা
তিনি আরও বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের তফসিলে জাতীয় ঐকমত্যের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি বাতিল করা হলে জুলাই সনদ এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
তার মতে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে—
গণভোট অধ্যাদেশ
বাস্তবায়ন আদেশ
জুলাই সনদ
নির্বাচনী তফসিল
—এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। অন্যথায় দেশে আইনি বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
অন্যান্য অধ্যাদেশ নিয়েও উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক অধ্যাদেশেও পরিবর্তন বা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে।
এসব অধ্যাদেশকে ‘ব্রেকথ্রু’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো বাতিল হলে রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা ভেঙে পড়বে।
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
সরকারকে ‘অযৌক্তিক ও অসাংবিধানিক’ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে শিশির মনির বলেন, সংসদে কোনো অসাংবিধানিক আইন পাস হলে তা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।
তার এই বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন