নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:৪২ PM
দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার সকালে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটি-এর সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশিদ।
তিনি বলেন, দেশে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “এটি রুটিন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে একটি সম্পূরক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে,” বলেন তিনি।
বয়সসীমা বাড়ানো হলো
বর্তমান রুটিন অনুযায়ী, শিশুরা ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ পেয়ে থাকে। তবে নতুন এই ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় এই বিস্তৃত বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিবন্ধন ও প্রস্তুতি
ক্যাম্পেইন শুরুর আগে দেশজুড়ে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অভিভাবকদের জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায় ও কখন শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং এলাকা ভিত্তিক ‘মাইক্রোপ্ল্যান’ তৈরি করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা
এই বৃহৎ কর্মসূচিতে সহায়তা দিচ্ছে গ্যাভি। সংস্থাটি টিকা, অর্থায়ন এবং লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করছে। ইতোমধ্যে টিকা সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সিরিঞ্জসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য গুরুত্ব
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। সময়মতো ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম চালানো গেলে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব।
সরকার আশা করছে, পরিকল্পিত এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন