মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ ও ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার, ২৩ মার্চ, ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তের পেছনে ইরানের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক আলোচনাকে কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনার সুর ও অগ্রগতি বিবেচনায় সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই স্থগিতাদেশ স্থায়ী নয়; আলোচনা কাঙ্ক্ষিত পথে না এগোলে অবস্থান বদলাতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার এক আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত না হলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ হুমকির জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেয় এবং জানায়, তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাত এলে তারা আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলার দুর্বল হয়, শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় এবং বিনিয়োগকারীরা এটিকে সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। অর্থাৎ, সিদ্ধান্তটির প্রভাব কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, জ্বালানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়েছে।
তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালী, উপসাগরীয় জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ফলে পাঁচ দিনের এই বিরতি বাস্তব অর্থে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতিতে রূপ নেবে, নাকি এটি কেবল সাময়িক কৌশলগত বিরতি—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে দুইটি বার্তা স্পষ্ট। প্রথমত, ওয়াশিংটন এখনো সামরিক চাপকে কূটনৈতিক দরকষাকষির অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে তার অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্ববাজার, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও আরও বড় ধাক্কা খেতে পারে। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা সপ্তাহজুড়ে কী দিকে যায়, সেটিই পরিস্থিতি নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন