প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে যে এপস্টেইন ফাইল নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই আলোচনা অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দণ্ডিত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ করে। এসব নথিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ঘিরে বিতর্ক
প্রকাশিত নথির পর যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সাবেক সদস্য Prince Andrew এবং যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত Peter Mandelson-এর নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর সরকারের ওপরও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী Ehud Barak-সহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও সমালোচনার মুখে পড়েন। একই সঙ্গে এপস্টেইনের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়েও নতুন অভিযোগ উঠেছে। কিছু বিশ্লেষক দাবি করেন, তার সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা Mossad-এর সম্ভাব্য যোগাযোগ থাকতে পারে—যদিও এই অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী Howard Lutnick-এর বিরুদ্ধেও এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন বলে তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Bill Clinton গত সপ্তাহে আইনপ্রণেতাদের কাছে গোপন শুনানিতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তিনি এমন কিছু দেখেননি যা তাকে উদ্বিগ্ন করেছিল। একই কমিটির সামনে এর আগের দিন সাক্ষ্য দেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Hillary Clinton।
যুদ্ধ শুরু হতেই বদলে যায় আলোচনার কেন্দ্র
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বোমা হামলা শুরু হওয়ার পর এই ইস্যুর আলোচনায় দ্রুত পরিবর্তন আসে। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান Thomas Massie বলেন, “পৃথিবীর অন্য প্রান্তে একটি দেশে বোমা ফেললেই এপস্টেইন ফাইলের বিষয়টি হারিয়ে যাবে না।” তিনি একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন।
ইরানে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera কথা বলেছে অ্যাটলাস গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজির বিশ্লেষক ও সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক Shaiel Ben‑Ephraim-এর সঙ্গে।
তার মতে, এই হামলা ও এর সময় নির্ধারণ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, এর পেছনে বড় কোনো কৌশলগত কারণ নেই।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক চাপ
বিশ্লেষক বেন-এফ্রাইমের মতে, বর্তমানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর জনপ্রিয়তার হার তার মেয়াদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে যুদ্ধের মতো বড় ইস্যু কার্যকর হতে পারে। তিনি আরও বলেন, গুগলে এপস্টেইন ফাইল নিয়ে অনুসন্ধানের প্রবণতা দেখলেও বোঝা যায়—ইরানে হামলা শুরুর পর এ বিষয়ে অনুসন্ধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক হিসাব
বেন-এফ্রাইমের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-ও এই যুদ্ধের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার আশা করতে পারেন। কারণ স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, আগামী জুনের মধ্যেই দেশটিতে নির্বাচন ঘোষণা হতে পারে।
তিনি বলেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ নেতানিয়াহুর জনসমর্থন খুব বেশি বাড়াতে পারেনি। কারণ সেখানে প্রতিপক্ষ Hamas তুলনামূলক দুর্বল এবং ইসরায়েলও খুব বড় সামরিক সাফল্য দেখাতে পারেনি। তার মতে, ইরান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ, যা রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন ধরনের প্রভাব তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
—
চাইলে আমি এটাকে **একদম প্রথম আলো বা যুগান্তরের স্টাইলে আরও এডিট করে (হেডিং, সাবহেডিং, ইনফোগ্রাফিক আইডিয়া, SEO টাইটেলসহ)**ও করে দিতে পারি।
✍️ মন্তব্য লিখুন