জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন ড. এম এ রহিম। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এর কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্যাটাগরিতে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাগুলোর একটি স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণার পথচলা
ড. এম এ রহিম ১৯৮২ সালে বাকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
গবেষণা ও শিক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিসরেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০০৩, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের University of Wisconsin–Madison এবং University of Florida-এ ভিজিটিং অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের অ্যাডজাঙ্ক্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবেও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছেন।
‘বাউকুল’ উদ্ভাবনে নেতৃত্ব
ড. এম এ রহিমের নেতৃত্বে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয় উচ্চফলনশীল ও অর্থকরী কুলের জাত ‘বাউকুল’, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘আপেল কুল’ নামেও পরিচিত। বাকৃবির জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রায় ১৭ বছরের গবেষণা প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এ জাতটি উদ্ভাবিত হয়। বর্তমানে এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয় ফলের জাত হিসেবে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে।
নানা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
কৃষি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘হুজ হু বাংলাদেশে ২০১৭’ পদক লাভ করেন। বৃক্ষরোপণে অবদানের জন্য ২০০৪, ২০১২ ও ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।
এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নানা সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে Norman E. Borlaug আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মাননা-২০০৮, বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক-২০১৪, খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ স্বর্ণপদক-২০১৬, বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার স্বর্ণপদক-২০১৬ এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স স্বর্ণপদক-২০১২।
গবেষণায় সমৃদ্ধ অবদান
গবেষণাক্ষেত্রেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। ফল উৎপাদন, কৃষি বনায়ন, ফল সংগ্রহ ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ বিষয়ে তার ২২৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
কৃষি গবেষণা ও ফল উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এবার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননার একটি স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন এই খ্যাতিমান কৃষিবিজ্ঞানী।
✍️ মন্তব্য লিখুন