অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:২৯, ২ মার্চ ২০২৬
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। তিনি বলেছেন, দুই দেশের গভীর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে জনগণের যাতায়াত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করা জরুরি।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়াতে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভারত আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
বৈঠক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানাতে সাক্ষাৎ করেছেন। আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা, বর্ডার হাট চালু করা এবং স্থলবন্দর কার্যক্রম সক্রিয় করার বিষয় গুরুত্ব পায়। বর্তমানে বন্ধ থাকা কয়েকটি স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট পুনরায় চালুর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, বৈঠকে ভারতীয় অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা-প্রত্যাশীদের যাতায়াত সহজ হবে, যা সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে সীমান্ত বাণিজ্য, পর্যটন ও সেবা খাতে এর তাৎপর্য উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিককরণ এবং স্থলবন্দর ও বর্ডার হাট পুনরায় চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারত–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকেও শক্তিশালী করবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন