মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, চলমান সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানই হওয়া উচিত প্রধান পথ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানায়।
‘অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ’ নিয়ে উদ্বেগ
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপগুলোর দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা। মস্কোর মতে, এ ধরনের অভিযান শুধু সংঘাতকে উসকে দেয় না, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে যেকোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টায় রাশিয়া আগের মতোই সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
মেদভেদেভের কঠোর মন্তব্য
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার আড়ালে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে আলোচনাগুলো অনেক সময়ই “ছদ্মাবরণ” হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং প্রকৃত সমঝোতার আগ্রহ দেখা যায়নি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি পারস্য সভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ধৈর্য ও সময়ই বড় নির্ধারক হতে পারে।
খামেনিকে ঘিরে বিতর্কিত দাবি
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি একটি সংবাদমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল-১২ অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এক হামলার পর খামেনির মৃত্যুর সম্ভাবনা নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও এ দাবির সত্যতা যাচাইযোগ্য স্বাধীন কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ পায়নি।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে যদি দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না করা হয়।
রাশিয়ার সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট, তারা এই সংকটকে সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে। আন্তর্জাতিক মহলে এখন নজর রয়েছে—পরিস্থিতি কি সংলাপের পথে ফিরবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়বে।
✍️ মন্তব্য লিখুন