প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের সামরিক ও গোয়েন্দা অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর নিয়োগের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ পেশাদার সামরিক ক্যারিয়ার, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে তিনি সেনাবাহিনীর অন্যতম মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত।
সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পেশাগত দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতেই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব তাঁর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
সামরিক প্রশিক্ষণে ধারাবাহিক সাফল্য
মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ২৯তম লং কোর্স থেকে কমিশন লাভ করেন এবং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি তাঁর কোর্সের সিনিয়রতম কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, প্রশিক্ষণ জীবনের শুরু থেকেই তিনি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং একাডেমিক দক্ষতায় বিশেষ স্বাক্ষর রেখেছেন।
তিনি দেশ-বিদেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কোর্স অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে দুইবার স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করা ছাড়াও তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন, যা তাঁর পেশাগত দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানে সমৃদ্ধ করেছে।
দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর
দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতার সঙ্গে। পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অপারেশনাল পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে তাঁর নেতৃত্বগুণের পরিচয় পাওয়া যায়।
এ ছাড়া তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) তিন বছরের বেশি সময় ধরে ডিরেক্টিং স্টাফ ও চিফ ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ সামরিক নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিনি একাধিক মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৯ সালে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অবস্থান সুদৃঢ় করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর দায়িত্বকালে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী শীর্ষ দেশ (Top Troop Contributing Country) হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং নতুন মিশনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তাঁর পেশাদারিত্ব ও কর্মনিষ্ঠার জন্য তিনি জাতিসংঘের সামরিক উপদেষ্টাদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সহকর্মীদের মূল্যায়ন
সহকর্মী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মতে, প্রশিক্ষণ, অপারেশন ও প্রশাসন—সবক্ষেত্রেই মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী তাঁর দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিএমএ-তে নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা এবং মানবিক আচরণের জন্য তিনি জুনিয়রদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন অনেকেই।
সময়োপযোগী নিয়োগ
বিশ্লেষকদের মতে, গোয়েন্দা সংস্থার মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে একজন পেশাদার, অভিজ্ঞ এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কর্মকর্তার নিয়োগ জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণে দক্ষতা—সবকিছু মিলিয়ে এই নিয়োগকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। দেশের নিরাপত্তা, কৌশলগত গোয়েন্দা সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে তাঁর নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন