নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১০ PM
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষিকা নিয়োগে ৬০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভিডিওটির উৎস যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এ মন্তব্য করেননি; বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালে একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই বক্তব্য দেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন। সম্প্রতি সেই সাক্ষাৎকারের একটি অংশ কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রেক্ষাপট ছাড়া তা প্রচার হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ওই সাক্ষাৎকারে ড. মিলন নারী শিক্ষার প্রসারে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার বিস্তারে উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা প্রথমে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত এবং পরে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপবৃত্তি কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি তারেক রহমান-এর ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে ডিগ্রি লেভেল পর্যন্ত উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের বিষয়ে সাক্ষাৎকারে ড. মিলন বলেন, অতীতে ইন্টারমিডিয়েট পাস নারীদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা নিয়োগে ৬০ শতাংশ কোটা নির্ধারিত ছিল, যা পরবর্তী সময়ে বাতিল করা হয়। সেই কোটা পুনর্বহালের সম্ভাবনা নিয়ে নীতিগত আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি তখন মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া সাক্ষাৎকারে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মাদ্রাসা শিক্ষা ও ইংরেজি শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, প্রবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণভিত্তিক শিক্ষা জোরদারের কথাও তুলে ধরেন।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেক্ষাপটবিহীন ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নীতিগত বক্তব্য নিয়ে ভুল ব্যাখ্যার ঝুঁকি থাকে। তাই নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সময়, প্রেক্ষাপট ও আনুষ্ঠানিক অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
✍️ মন্তব্য লিখুন