দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। নতুন করে দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন স্বর্ণের দাম
বাজুস নির্ধারিত নতুন দরে—
২২ ক্যারেট: ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা
২১ ক্যারেট: ভরি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা
১৮ ক্যারেট: ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: ভরি ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা
সংগঠনটি জানিয়েছে, এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি (মেকিং চার্জ) যুক্ত হবে। তবে গহনার ডিজাইন, কারুকাজ ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।
আগের সমন্বয় ও মূল্য প্রবণতা
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বার দাম বেড়েছে এবং ১২ বার কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং কাঁচা স্বর্ণের আমদানি খরচ—এসব বিষয় স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
রুপার দাম অপরিবর্তিত
স্বর্ণের দামে পতন হলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে—
২২ ক্যারেট রুপা: ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা
২১ ক্যারেট: ৬ হাজার ৬৫ টাকা
১৮ ক্যারেট: ৫ হাজার ১৯০ টাকা
সনাতন পদ্ধতির রুপা: ৩ হাজার ৯০৭ টাকা
চলতি বছরে রুপার দাম ১৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে। গত বছর রুপার দাম সমন্বয়ের সংখ্যা ছিল ১৩ বার।
বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক এই পতনের ফলে গহনার বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে পারে, বিশেষ করে বিয়ে ও উৎসব মৌসুমকে সামনে রেখে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবারও দামের সমন্বয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন