প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংশোধিত ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) বাদ দিয়ে বছরে মোট ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ দিন।
মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, মূল্যায়ন কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ করতে বছরের শুরুতেই সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা সুলতানার স্বাক্ষর রয়েছে।
টানা ২৬ দিনের দীর্ঘ ছুটি
সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটি রাখা হয়েছে পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। এ ছুটি ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬ দিন চলবে।
এছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১০ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিন এবং যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন ও শীতকালীন অবকাশ ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দিন বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
মূল্যায়ন ও পরীক্ষার সময়সূচি
শিক্ষাপঞ্জিতে বছরজুড়ে মূল্যায়ন কার্যক্রমের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে ৫ মে থেকে ১৭ মে, দ্বিতীয় প্রান্তিক ১৭ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট এবং তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন ১ ডিসেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এছাড়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ থেকে ২৩ ডিসেম্বর এবং শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে ৩১ ডিসেম্বর।
অন্যান্য ছুটি ও দিবস
সংশোধিত তালিকায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে ছুটিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাঘী পূর্ণিমা, শবে বরাত, শিবরাত্রি ব্রত, ইস্টার সানডে, বৈসাবি উৎসব, চৈত্র সংক্রান্তি, বাংলা নববর্ষ, আষাঢ়ী পূর্ণিমা, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, আখেরি চাহার সোম্বা, ঈদে মিলাদুন্নবী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, শ্যামাপূজা এবং বিজয় দিবস।
বিশেষ নির্দেশনা
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন বা সংবর্ধনার জন্য কোনো বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা যাবে না। একই সঙ্গে সংবর্ধিত ব্যক্তির সম্মান প্রদর্শনের জন্য শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে ভর্তি কার্যক্রম, পরীক্ষা বা প্রশাসনিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ছুটির দিনেও বিদ্যালয় খোলা রাখা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর এবং বাংলা নববর্ষসহ জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন