দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের জন্য ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সংশোধিত ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি অনুমোদন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) ছাড়া বছরে মোট ৬৭ দিন ছুটি থাকবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যুগ্ম সচিব রেবেকা সুলতানার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস বিবেচনায় ছুটির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
রমজান-ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসে দীর্ঘতম ছুটি
প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দীর্ঘতম ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। এ সময় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬ দিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকবে।
এ ছাড়া গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১০ দিন এবং শীতকালীন অবকাশ ও বড়দিন উপলক্ষে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে।
মূল্যায়ন ও পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ
নতুন শিক্ষাপঞ্জিতে তিনটি প্রান্তিক মূল্যায়নের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন: ৫ মে–১৭ মে
দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন: ১৭ আগস্ট–৩০ আগস্ট
তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন: ১ ডিসেম্বর–১০ ডিসেম্বর
এছাড়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬।
বিদ্যালয় পরিচালনায় কঠোর নির্দেশনা
মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন, সংবর্ধনা বা আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা যাবে না। পরিদর্শনকারী ব্যক্তির সম্মানে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়টিও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে জাতীয় দিবসসমূহ—২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, বাংলা নববর্ষ ও ১৬ ডিসেম্বর—যথাযথ মর্যাদায় বিদ্যালয়ে উদ্যাপন করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকদের জন্য সীমিত ছুটির সুযোগ
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকরা সংরক্ষিত কোটা থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ দিন ছুটি নিতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা বা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি প্রণয়নের মাধ্যমে একদিকে শিক্ষাবর্ষের পাঠদানের সময় নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও জাতীয় কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন