অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৯, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে অফিস করছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। দায়িত্ব পালনের শুরুর দিকেই তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষা খাতের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং শিক্ষানীতি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরতে পারেন মন্ত্রী।
বুধবার সচিবালয়ে কর্মদিবসের প্রথম দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান শিক্ষাক্রম বা কারিকুলাম পর্যালোচনা করা হবে। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত, শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক কাঠামো এবং চলমান প্রকল্পসমূহ মূল্যায়ন করে একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, আসন্ন সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনার প্রাথমিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হতে পারে।
শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা যেন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও কর্মসংস্থানমুখী হয়—এটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষতানির্ভর কারিকুলাম প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী দাবি করেন, গত কয়েক বছরে শিক্ষা খাতে যে স্থবিরতা, অনিয়ম ও নীতিগত অসংগতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে ধাপে ধাপে সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এর আগে বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে পৌঁছালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক ব্রিফিং নেন।
নীতিনির্ধারণী মহলের ধারণা, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া শিক্ষাখাতে দ্রুত নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করার একটি ইঙ্গিত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কারিকুলাম পর্যালোচনা, শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং কর্মমুখী শিক্ষা—এই তিনটি বিষয়ই মন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে থাকতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন