ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
বিএনপি সরকার গঠন করলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন–এর নাম আলোচনায় এসেছে—এমন গুঞ্জন কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদে তার নাম না থাকায় এ আলোচনা আরও জোরদার হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব পাননি বলে জানিয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এ নিয়ে ভাবেনও না।
ড. মোশাররফ বলেন, “এর আগে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে, আমি দেশের কাজে কীভাবে ভূমিকা রাখতে চাই। তখনও আমি বলেছি—দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই তা পালন করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পার্টি আমাকে যেভাবে কাজে লাগাবে, যে দায়িত্ব দেবে, আমি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব।”
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে প্রথম করণীয় কী হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান অন্যায় ও দুর্নীতি রোধে রাষ্ট্র সংস্কারের যে ৩১ দফা প্রস্তাব রয়েছে, তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে যে-ই থাকুন না কেন, প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশকে স্বনির্ভর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও নিজ জেলায় তিনি একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর সাবেক অধ্যাপক এবং দেশের প্রশাসন ও উন্নয়ন নীতিনির্ধারণে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই তার নাম সামনে আসলেও দলীয় বা সাংবিধানিক কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ পায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা বাড়লেও বিষয়টি মূলত নির্ভর করবে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও দলীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
✍️ মন্তব্য লিখুন