দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নতুন সরকার। এ লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কমিশন ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং আগামী সপ্তাহের বৈঠকে নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হতে পারে।
দ্রুত উদ্যোগের প্রেক্ষাপট
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এর মধ্য দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকাল শেষ হয় এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুটি আবারও সামনে আসে। দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিনের মাথায় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়াকে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইনগত বাধ্যবাধকতা ও মেয়াদ পরিস্থিতি
স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২ জুন ২০২০; সে হিসেবে এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ১ জুন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা ৩ জুন ২০২০ হওয়ায় এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১; এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
এই সময়সীমা বিবেচনায় নির্বাচন আয়োজন এখন আইনগতভাবেও জরুরি হয়ে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কমিশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, আসন্ন বৈঠকে নির্বাচনের রোডম্যাপ, সম্ভাব্য সময়সূচি, মাঠ প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে ১২টি সিটি করপোরেশন, শতাধিক পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় সরকার কাঠামোতে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গুরুত্ব বাড়ে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি উঠলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তির মুখে সে উদ্যোগ থেকে সরে আসা হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়।
প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, নগর সেবা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফিরলে নগর ব্যবস্থাপনা ও সেবার কার্যকারিতা বাড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এখন নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি। সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে, আইনগত সময়সীমা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দ্রুতই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন