নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
পবিত্র মাহে রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে আবহাওয়াও ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রমজান মাসে ঢাকাসহ সারাদেশে আরামদায়ক আবহাওয়া দিয়ে শুরু হলেও শেষের দিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, উষ্ণতা ও স্থানীয়ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা—দুই ধরনের আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্যই দেখা যেতে পারে।
বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় জানায়, রমজানের প্রথম দিন দেশের আবহাওয়া ছিল তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সহনীয় ছিল এবং রাতের আবহাওয়া ছিল হালকা ঠান্ডা ও আরামদায়ক।
প্রথম ১০ দিন: আরামদায়ক আবহাওয়া, কোথাও ছিটেফোঁটা বৃষ্টি
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, রমজানের প্রথম ১০ দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া মোটামুটি আরামদায়ক থাকতে পারে। এ সময় আকাশ আংশিক থেকে কখনো মেঘলা থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় প্রতিদিন রোদের উপস্থিতি থাকবে।
বিশেষ করে ২ থেকে ৪ রমজান (২০-২২ ফেব্রুয়ারি) সময়ে রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু এলাকায় এবং দেশের অন্যত্র দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে হালকা বৃষ্টি বা ছিটেফোঁটা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া ৫ ও ৬ রমজান (২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি) খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির আভাস রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
মধ্যবর্তী সময়: রোদ বাড়বে, তাপমাত্রা ধীরে বৃদ্ধি
রমজানের মধ্যবর্তী ১০ দিন (১-১০ মার্চ) জুড়ে আবহাওয়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা বাড়তে পারে। অধিকাংশ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।
এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে এবং রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে রাতে স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া বজায় থাকলেও দিনের বেলায় উষ্ণতার অনুভূতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে সময়ের শেষ দিকে।
শেষ ১০ দিন: উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া, তাপপ্রবাহের শঙ্কা
রমজানের শেষ ১০ দিন (১১-২০ মার্চ) শুরু হতে পারে তুলনামূলক উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া দিয়ে। আবহাওয়া বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ সময় দেশের বেশিরভাগ এলাকায় তীব্র রোদের প্রভাব দেখা যেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রাও বাড়তে পারে, ফলে গরমের অনুভূতি আরও বাড়বে।
তবে মাসের শেষ দিকে আকাশ আংশিক থেকে প্রধানত মেঘলা হতে পারে এবং বৃষ্টি বা বৃষ্টিবলয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্বাভাস পরিবর্তনের সম্ভাবনা
আবহাওয়া স্বভাবতই পরিবর্তনশীল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস আংশিক বা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তাই রোজাদারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ (ইফতার ও সেহরিতে) এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির সময় বাইরে চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন