নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৩
রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে, ফলে পণ্যের কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সভায় জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয় করা হচ্ছে। “রমজানে নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। সে বিষয়টি মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সকল পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, কোথাও কোনো সংকট নেই,”—বলেন তিনি।
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি স্থানে ন্যায্যমূল্যে মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে স্বল্প আয়ের মানুষ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য সহজে পেতে পারেন। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম জেলা পর্যায়েও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরবরাহ চেইন সচল রাখা, মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে মূল্যস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মাঠ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় টাঙ্গাইল জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং “নিরাপদ টাঙ্গাইল” গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিশ্রুত উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে।
সরকারের দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর মতে, সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে রমজানজুড়ে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন