নিজস্ব প্রতিবেদক
যাত্রী হয়রানি, লাগেজ নিয়ে অনিয়ম ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদ এখনও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়লেও সেটি সঠিক নয়।
নওশাদ খান নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি এখনও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখনও বিমানবন্দরেই আছি। একটু আগে লাগেজের কাজ করলাম।’
বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে নওশাদ দ্রুত আলোচনায় আসেন। যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, লাগেজ চুরি ও যাত্রী হয়রানির মতো ঘটনায় তাঁর বিভিন্ন পদক্ষেপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই অনেকে তাঁকে ‘ফাটাকেষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট’ নামে অভিহিত করতে শুরু করেন।
লাগেজ ব্যবস্থাপনায় নজরদারি
বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনের সময় লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন নওশাদ। লাগেজ হ্যান্ডলিং ও রিলিজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়।
তবে এসব উদ্যোগের কৃতিত্ব কোনো একজনের নয়—এ কথাও নওশাদ আগে স্পষ্ট করেছিলেন। বিমানবন্দরে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকায় গুঞ্জন
সাম্প্রতিক সময়ে নওশাদকে আগের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা না যাওয়ায় তাঁর বদলি নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুব একটা ব্যবহার করেন না এবং তা এড়িয়ে চলেন। এ কারণেই অনেকে তাঁর দায়িত্ব পরিবর্তন হয়েছে বলে ধারণা করছেন।
বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নওশাদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক কিছুই প্রচার হয়। তবে কোনো যাত্রী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানালে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। যাত্রীদেরও নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সরকারি তথ্যেও কে এম আবু নওশাদকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, লাগেজ পেতে বিলম্ব ও অন্যান্য ভোগান্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় নওশাদের দায়িত্বে থাকা এবং তাঁর কার্যক্রমও আবার আলোচনায় এসেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন