ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় আবু তৈয়ব হাবিলদারের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাও ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় ঢুকে জিন্নাহর তিনটি ছবি ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব। ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু তৈয়ব ২০০১–০২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে পড়াশোনা শেষ করতে না পারায় দীর্ঘ বিরতির পর তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি উর্দু বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থী।
জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের সময় তাঁর সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হলেও ওই ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে কোনো ব্যক্তির নাম বা সাংগঠনিক পদ উল্লেখ করা যাচ্ছে না।
আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে জিন্নাহর ছবি ডাকসুতে কেন রাখা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের। তাঁর অভিযোগ, জিন্নাহ বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিরোধিতা করেছিলেন।
সংস্কারের পর রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা নতুন করে চালু করা হয়। সেখানে জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছিল। এর একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে তাঁর বক্তব্যের সময়কার ছবি। ওই বক্তব্যে জিন্নাহ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। অন্য দুটি ছবির একটি ১৯৪০ সালের লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সম্মেলনের এবং অন্যটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এর একটি প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।
জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন আপত্তি জানিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও ছবি সরানোর দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেছেন, জিন্নাহর ছবি রাখার পাশাপাশি তাঁর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানও ছবির নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখন ক্যাম্পাসে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাগুলো উপস্থাপনের নীতিমালা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন